ইলেকট্রনিক্স প্রত্যেকটি যন্ত্রই বিদ্যুৎ শক্তি ছাড়া চলতে পারে না।  এই বিদ্যুৎ শক্তিকে এসি বিদ্যুৎ থেকে ডিসি বিদ্যুৎতে রুপান্তরিত করে নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশে সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করাই হল পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কাজ। আর কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন হার্ডওয়্যার হচ্ছে পাওয়ার সাপ্লাই। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বা পিএসইউ এর কাজ হচ্ছে বিদ্যুৎ লাইন থেকে ইলেক্ট্রিসিটি সংগ্রহ করে সেই বিদ্যুৎকে যন্ত্রাংশের প্রয়োজন অনুযায়ী কনভার্ট  করা। অর্থাৎ বিদ্যুৎ লাইনের ২২০-২৪০ ভোল্ট এসি মুড থেকে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যারগুলোতে ডিসি +৩.৩, +৫, -৫, +১২ এবং -১২  ভোল্টে কনভার্ট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ ভেদে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের গঠনপ্রণালী বিভিন্ন রকম হতে পারে। তবে, কম্পিউটারের জন্য আমরা এটিএক্স পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করে থাকি।

কম্পিউটারের ক্ষেত্রে পাওয়ার সাপ্লাই এতোটাই গুরুত্বপূর্ন যে, সঠিক মাত্রায় কম্পিউটারের অন্যান্য হার্ডওয়্যারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না দিলে আপনার কম্পিউটারের বারোটা বাজবে। এমনকি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ত্রূটির কারণে কম্পিউটারের যে কোন হার্ডওয়্যার পুড়েঁ যেতে পারে।

 

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের র্কাযপ্রণালী দু’টি অংশঃ

কম্পিউটারের এটিএক্স পাওয়ার সাপ্লাইয়ের দু’টি অংশ রয়েছে। যথা: (১) ইনপুট ইউনিট এবং (২) আউটপুট ইউনিট।

(১) ইনপুট ইউনিটঃ এ ইউনিটের কাজ হলো বিদ্যুৎ লাইনের ২২০-২৪০ ভোল্ট এসি মুডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।

(২) আউটপুট ইউনিটঃ ২২০-২৪০ ভোল্ট এসি মুডের বিদ্যুৎ, কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যারগুলোতে ডিসি মুডে ভোল্ট কনভার্ট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।

 

রেটিং জেনে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহারঃ

আমরা যখন কম্পিউটারের আপগ্রেডের জন্য প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, র‌্যাম, পিসিআই কার্ড পরিবর্তন করতে চাই এবং এক্ষেত্রে উন্নতমানের পাওয়ার সাপ্লাইয়ে ব্যবহারের কথা চিন্তা করতে নারাজ। বাধ্য হয়ে পরিবর্তন করলেও টাকার জন্য কষ্ট পাই। উন্নত মানের পাওয়ার সাপ্লাই আপনাকে নানান অসুবিধা থেকে বাচিঁয়ে সঠিকভাবে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। কমদামি সাধারন মানের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ৫০০ ওয়াট লেখা থাকলেও তা ২৫০-৩০০ ওয়াট বিদ্যুৎ দিবে কিনা সন্দেহ।

কম্পিউটারের জন্য পাওয়ার সাপ্লাই ক্রয়ের ব্যাপারে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের রেটিং জেনে না কিনলে তা আপনার কম্পিউটারের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। ধরুন, আপনি দুটি পাওয়ার সাপ্লাই হাতে নিয়ে দেখলেন যে, দু’টি পাওয়ার সাপ্লাইয়ে দুই ধরনের রেটিং লিখা, দাম একই। যেমন-

Peak rating of 550 watts at 25°C, with 25 amps (300 W) on the 12 volt line”

Continuous rating of 450 watts at 40°C, with 33 amps (400 W) on the 12 volt line”

প্রশ্ন হলো আপনি কোনটি কিনবেন? এখানে প্রথমটি আপনাকে সর্বোচ্চ ৫৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে কিন্তু সব সময় এ রেটিং এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয়টি সব সময়েই ৪৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। তাই প্রথমটি থেকে দ্বিতীয়টি ভাল রেটিংরের , যার এফিসিয়েন্সিও ভালো হবে। কেননা, এফিসিয়েন্সি কম হলে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে, ফলে আপনার বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যাবে।

Continuous power — VS —  Peak power

উপরের চিত্রটি ভালো ভাবে লক্ষ্য করুন প্রথমটি সব সময়ের জন্য  Continuous rating of 850 watts বিদ্যুৎ এবং দ্বিতীয়টি সর্বোচ্চ ও অল্প সময়ের জন্য Peak rating of 850-800 watts বিদ্যুৎ দিবে। মানে প্রথমটি আর্দশ পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট।

 

Power Supply Unit Efficiency:

Power Supply Unit এসি 220-240 বিদ্যুৎ  লাইন বা ওয়াল সকেট থেকে যে পরিমান বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে  কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোতে সরবরাহ করছে তার অনুপাতকেই Power Supply Unit Efficiency বলে।

অর্থাৎ  Efficiency = (DC power / AC power)X100

উপরের এক নং  চিত্রে এসি 220-240 বিদ্যুৎ  লাইন বা ওয়াল সকেট থেকে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি 500 W বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে ডিসি মুডে 350 W বিতরণ করছে, তাহলে এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের Efficiency হবে 70% (Efficiency সূত্র অনুযায়ী)।

মানে, Efficiency = (DC power / AC power)X100

Efficiency = (350/500)X100= 70%

লক্ষ্যনীয়, ওয়াল সকেট থেকে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি 500 W বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে ডিসি মুডে 350 W বিতরণ  করা হয়েছে তার মানে পাওয়ার প্রসেসিং সময় ১৫০ ওয়াট পাওয়ার তাপ ও শব্দ শক্তিতে পরিনত হয়েছে। এখন যে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যত কম বিদ্যুৎ নষ্ট করে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোতে পাওয়ার সাপ্লাই করতে পারবে তার Efficiency তত ভালো।

উপরের দুই নং চিত্রে এসি 220-240 বিদ্যুৎ  লাইন বা ওয়াল সকেট থেকে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি 450 W বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে ডিসি মুডে 360 W বিতরণ করছে, তাহলে এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের Efficiency হবে 80% (Efficiency সূত্র অনুযায়ী)।

মানে, Efficiency = (DC power / AC power)X100

Efficiency = (360/450)X100 = 80% 

লক্ষ্যনীয়, ওয়াল সকেট থেকে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি 450 W বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে ডিসি মুডে 360 W বিতরণ  করা হয়েছে তার মানে পাওয়ার প্রসেসিং সময় ৯০ ওয়াট পাওয়ার তাপ ও শব্দ শক্তিতে পরিনত হয়েছে।

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের Efficiency এর পার্থক্য বুঝিঃ

প্রথম পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটি  500 Watt পরিমান বিদ্যুৎ কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোতে সাপ্লাই দিবে, মানে পাওয়ার সাপ্লাইটি ওয়াল সকেট থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করবে (100/70)X500 = 714 Watt পরিমান বিদ্যুৎ। যদি পিসির হার্ডওয়্যারগুলোর চাহিদা ৩০০ ওয়াট হয় তাহলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট টি ওয়াল সকেট থেকে  বিদ্যুৎ নিবে (100/70)X300 = 430 Watt.

এবং দ্বিতীয় পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটি  450 Watt পরিমান বিদ্যুৎ কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোতে সাপ্লাই দিবে, মানে পাওয়ার সাপ্লাইটি ওয়াল সকেট থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করবে (100/80)X450 = 562 Watt পরিমান বিদ্যুৎ। যদি পিসির হার্ডওয়্যারগুলোর চাহিদা ৩০০ ওয়াট হয় তাহলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট টি ওয়াল সকেট থেকে  বিদ্যুৎ নিবে (100/80)X300 = 375 Watt.

“ তার মানে দাঁড়াচ্ছে বেশি Efficiency এর পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহার করলে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল কম আসবে।”

 

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের রেইল (PSU Rails)

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট AC লাইনের 220V (Alternating Voltage)  কে,   সাধারনত +3.3V, +5V, +12V, -12V, +5VSB (standby) এ ভোল্টেজ গুলাতে কনভার্ট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। নির্দিস্ট লাইনের বা তারের মাধ্যমে পিসি কম্পোনেন্ট গুলাতে ওই ভোল্টেজ হিসাবে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন হয়। সাপ্লাইকৃত ভোল্টেজ গুলোকে রেইল বলা হয়। সহজ কথায় +3.3V Rail, +5V Rail, +12V Rail, -12V Rail, +5VSB (standby) Rail.

ভোল্টেজ হিসাবে কিভাবে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন হয় সহজ ভাবে একটু জানি। জানা আছে,

পাওয়ার=ভোল্টেজ X অ্যাম্পিয়ার

চিত্রের পাওয়ার সাপ্লাইটি +12V রেইলে 52 AMP সাপ্লাই দেয়। তাহলে +12V রেইলে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিশন হবে (+12X52) = 624 Watt. তেমনি বাকি রেইল গুলাতেও এই হিসাবে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন হয়।

 

কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলো কোন রেইলের অধীনে সংযোগ হয়ঃ

+3.3V Rail= Chipset, RAM,

+5V Rail= USB device, Mouse, Keyboard, CDROM, HDD

+12V Rail= Processor, GPU, Motors/Casing Fan, High-output voltage regulators

Rail এর উপর ভিত্তি করে পাওয়ার সাপ্লাই গুলাকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

1) Multi Rail Power Supply Unit এবং

2) Single Rail Power Supply Unit.

 

1) Multi Rail Power Supply Unit:

এ ধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ে একাধিক +১২ রেইল থাকে।

মাল্টি রেইল এর সুবিধা হচ্ছে আলাদা আলাদা কম্পোনেন্ট এর জন্য আলাদা আলাদা +১২ রেইল বরাদ্দ থাকে। যেমন হতে পারে ধরা যাক ৪টি রেইলের একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট।

ক) সিপিইউ ও মাদারবোর্ডের এর জন্য +12V1 একটা রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 30A মানে ৩৬০ওয়াট।

খ) দুটি PCIe slot এর জন্য একটা +12V2 রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 40A মানে ৪৮০ ওয়াট

গ)  দুটি 6+2 Pin PCIe কানেক্টরের জন্য একটা +12V3 রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 40A মানে ৪৮০ ওয়াট।

ঘ) আরো দুটি 6+2 Pin PCIe কানেক্টরের জন্য একটা +12V4 রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 40A মানে ৪৮০ ওয়াট।

চিত্র অনুযায়ী, +12 ভোল্টেজের চারটি রেইলের প্রতিটিতে 18 অ্যাপিয়ার করে যদি হিসাব করি (12Vx 18A) x4 = 864 Watt,  কিন্তু সব +12V রেইল মিলিয়ে সর্বোচ্চ 680W পাবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে প্রতি রেইলে ম্যাক্সিমাম 216 Watt এর উপর কোন কম্পোনেন্ট ইউজ করা যাবে না।  যদি ২৫০ ওয়াটের একটি গ্রাফিক্স কার্ড লাগাতে চান তবে অন্য রেইলের একটি কানেক্টর এনে রান করাতে হবে অথবা পাওয়ার সাপ্লাই পরিবর্তন করতে হবে।  এই মাল্টি রেইল পাওয়ার সাপ্লাই গুলোতে অনেক লিমিটেশন থাকে।

 

লক্ষ্যণীয়, Multi Rail Power Supply Unit এর খারাপ দিক হলো যে, আপনাকে একাধিক +১২ রেইল  থেকে অ্যাম্পিয়ার দ্বারা ক্যালকুলেশন করে সতর্কতার সাথে কম্পোনেন্টের পাওয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাবেল কানেকশন দেয়া লাগে। নয়তো কম্পোনেন্ট চালু নাও হতে পারে এমনকি নষ্টও হয়ে যেতে পারে।

 

2) Single Rail Power Supply Unit:

এ ধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ে শুধুমাত্র একটি +১২ রেইল থাকে।

জনপ্রিয় এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে একটি +১২ রেইলের একটি নির্দিষ্ট অ্যাম্পিয়ার থাকায় সহজেই কম্পিউটারের কম্পোনেন্ট সংযোগ দেয়া যায়। কোন ক্যালকুলেশন করে কানেকশন দেয়া লাগে না, কানেকশন দেয়ার সময় সতর্কও থাকা লাগে না মাল্টি রেইল পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মতো। কোন ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে না।

লক্ষ্যনীয়, Single Rail Power Supply Unit এর খারাপ দিক হলো যে, ক্যাবেল নষ্ট হয়ে গেলে বিকল্প ক্যাবল সংকট পড়তে হয়। কেননা এ ধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ে শুধুমাত্র একটি +১২ রেইল থাকে।

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের প্রকারভেদঃ

বাজারে সাধারনত তিন ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া যায়।যথা :

1. Non-modular PSU

2. Semi-modular PSU

3. Full Modular PSU

 

 

1. Non-modular Power Supply Unit:

এ ধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ে সকল প্রকার ক্যাবেল স্থায়ীভাবে সংযোগ করাই থাকে। আলাদাভাবে অতিরিক্ত কানেক্টর ক্যাবেল সংযোগ দেবার কোন সুযোগ থাকে না। Non-modular পাওয়ার সাপ্লাই এর তাপমাত্রাও কিছুটা বেশি থাকে। অপ্রয়োজনীয় অনেক ক্যাবেলই কেসিং এর ভিতরে তারের ঝটলা তৈরি করে।

2. Semi-modular Power Supply Unit:

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের কিছু গুরুতপুর্ন ক্যাবল যেমন 24Pin ATX Motherboard কানেক্টর ক্যাবল, একটি সিঙ্গেল 6/8pin PCIe ক্যাবল, 8 Pin CPU পাওয়ার ক্যাবল, আর একটি বা দুটি সাটা বা মোলেক্স ক্যাবল স্থায়ীভাবে সংযোগ করা থাকে এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই এর সাথে। বাকি সব ক্যাবল গুলা প্রয়োজন অনুসারে লাগানো  অথবা খুলে ফেলা যায়।

3. Full Modular Power Supply Unit:

এ ধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ে স্থায়ীভাবে কোন ক্যাবেল সংযোগই থাকে না। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাবেল  লাগানো অথবা খুলে ফেলা যায়। এধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের দাম বেশী হয়।

Power Supply Unit Form Factor

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের স্ট্যান্ডার্ড হলো Form Factor। এর সাহায্যে জানা যাবে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে কোন কোন টাইপের কানেক্টর রয়েছে।

এছাড়াও LFX12V, CFX12V, TFX12V, SFX12V এই Form Factor গুলা পাওয়া যায় তবে বর্তমানে ATX12V V 2.x এবং EPS12V এই স্ট্যান্ডার্ডের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা বেশি দেখা যায়।

Compatibility তে বলা হয়েছে যে,  পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি ATX12V v2.4 এবং EPS 2.92 স্ট্যান্ডার্ড। এর মানে এই দুই স্ট্যান্ডার্ডে যত রকম কানেক্টর ক্যাবল থাকার কথা, এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটির তা আছে, এবং ATX12V এর আগের দুটি স্ট্যান্ডার্ডের সিস্টেমের (ATX12V v2.2, ATX12V v2.01) সাথেও ম্যাচ করবে।

 

 

কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোর বিদ্যুৎ এর  ব্যবহারের পরিমাণঃ

নরমাল মাদারবোর্ড সর্বোচ্চ ২৫-৪০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

গেমিং মাদারবোর্ড সর্বোচ্চ ৪৫-১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

৫৪০০ আর পি এম হার্ড ডিস্কে সর্বোচ্চ ১১ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

৭২০০ আর পি এম হার্ড ডিস্কে সর্বোচ্চ ১৫ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

DDR2 র‌্যামের জন্য ৪.৫ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

DDR3 র‌্যামের জন্য ৩ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

নেটওর্য়াক (ল্যান) কার্ডে ৪ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

ডিভিডি রম/Blue Rey  ড্রাইভের জন্য সর্বোচ্চ ২৫-৩০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

পিসিআই কার্ডের জন্য ৫ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

SCSI পিসিআই কার্ডের জন্য ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

নরমার ভিজিএ (গ্রাফিক্স কার্ড) কার্ডে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

আধুনিক ভিজিএ (গ্রাফিক্স কার্ড) কার্ডে ৭৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০-২৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।

 

এছাড়া বর্তমানে আধুনিক মানের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার বাজারে আসছে যেগুলোর জন্য কত ওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে তা সেই হার্ডওয়্যারগুলোর প্যাকেট ও ম্যানুয়ালে স্পষ্টভাবে লিখা আছে।

 

আপনার কম্পিউটারের কত ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই লাগবে তা নির্ভর করে কাজের ধরনের উপরঃ

১) আপনার কম্পিউটারে যদি মাইক্রোসফট অফিস ডকুমেন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সাধারন মানের ভিডিও দেখা, ছোট ছোট কম্পিউটার গেমস খেলা হয়, তবে তার জন্য ৩০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যথেষ্ট।

২) মাঝারি ধরনের গেমিং পিসির জন্য ৫০০ থেকে ৮০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহার করা উচিত।

৩) হাই কনফ্রিগারেশেনের কম্পিউটারে হাই রেজুলেশন গেমস এবং  গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করার জন্য উন্নত মানের গ্রাফিক্স কার্ড সংযুক্ত থাকার কারণে  ৮০০ থেকে ১৪০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহার করা উচিত।

৪) সার্ভার অথবা গেমিং সার্ভারেরর জন্য ২ কিলো ওয়াটের অধিক পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহার করা উচিত।

 

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশঃ

পিসিবি বা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের মেইন বোর্ড

ক্যাপাসিটর

ট্রান্সফরমার

ট্রানজিস্টর

রেজিস্ট্যান্স

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট

ডায়োড

হিট সিং

কয়েল এ্যান্ড ওয়্যার

কুলিং ফ্যান

ফিউজ

 

ইলেকট্রনিক্স প্রত্যেকটি যন্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সর্ম্পকে বিস্তারিত জানতে লিংক দেয়া ওয়েব সাইটে ঘুরে আসতে পারেনঃ Identifying Electronic Components

 

 

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের কানেক্টর পরিচিতিঃ

কম্পিউটারের বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কমন কমবেশি সাত-দশ ধরনের কানেক্টর থাকে। কম্পিউটারে বিভিন্ন ডিভাইসের কারণে এটিএক্স পাওয়ার সাপ্লাইয়ে কানেক্টরে ভিন্নতা থাকতে পারে। নিচে  এটিএক্স পাওয়ার সাপ্লাইয়ে কিছু কানেক্টরের চিত্রসহ বিবরন দেয়া হলো।

 

১) ২৪ পিন এ টি এক্স (P1) :

কম্পিউটারের মাদারবোর্ড এ বিদ্যুৎ সংযোগে  ২৪ পিন এ টি এক্স কানেক্টর ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে প্রতিটি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মধ্যেই ২৪ পিন এ টি এক্স কানেক্টর থাকে। পূর্বে ২০ পিন এ টি এক্স কানেক্টর ছিল। আপনি প্রয়োজনে ২৪ পিন কানেক্টর খুলে তাকে ২০ পিন এ টি এক্স কানেক্টরে রূপান্তরিত করতে পারবেন।

নিচে ২৪ পিন এ টি এক্স কানেক্টরের বিস্তারিত চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো।

নিচে ২৪ পিন এ টি এক্স কানেক্টরের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো।

২) ৪ পিন বা পি৪ – ১২ ভোল্ট ATX পাওয়ার কানেক্টরঃ

পেন্টিয়াম ৪ প্রসেসর প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকেই ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য  ৪ পিন পাওয়ার কানেক্টর ব্যবহারের শুরু হয় । একে সিপিইউ পাওয়ার কানেক্টর এবং পি৪ পাওয়ার কানেক্টরও  বলা হয়।

নিচে ৪ পিন বা পি৪ এ ১২ ভোল্ট ATX পাওয়ার কানেক্টরের বিস্তারিত চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো।

) পিন – ১২ ভোল্ট ATX পাওয়ার কানেক্টরঃ

কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের প্রসেসর পাওয়ার (সিপিইউ পাওয়ার) সংযোগের প্রয়োজনে  পিনের  ১২ ভোল্ট ATX পাওয়ার কানেক্টর ব্যবহার হয়।

নিচে পিন – ১২ ভোল্ট ATX পাওয়ার কানেক্টরের বিস্তারিত চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো।

৪) ৪ পিন মোলেক্স (4 pin molex):

কম্পিউটারের সংযুক্ত Peripheral devices  যেমন র্হাডডিস্ক ড্রাইভ, সিডি বা ডিভিডি রম  এ বিদ্যুৎ সরবরাহে এই ৪ পিন মোলেক্স কানেক্টর ব্যবহার হয়।

নিচে পিন মোলেক্স (4 pin molex) ATX পাওয়ার কানেক্টরের বিস্তারিত চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হলো।

যেমন, হার্ড ড্রাইভ, সিডি / ডিভিডি রম ইত্যাদি। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, হলুদ রঙ এর তারে +১২ ভোল্ট, লালে +৫ ভোল্ট, এবং কালো হচ্ছে গ্রাউন্ড।

 

) ৪  পিন এফ ডি ডি কানেক্টরঃ

মিনি মোলেক্স খ্যাত ৪  পিন এফ ডি ডি কানেক্টর শুধু মাত্র ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ এ পাওয়ার সাপ্লাই দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এখানেও লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, হলুদ রঙ এর তারে +১২ ভোল্ট, লালে +৫ ভোল্ট, এবং কালো হচ্ছে গ্রাউন্ড।

৬ ) Serial ATA (SATA)  পাওয়ার কানেক্টরসঃ

সাটা হার্ডডিস্ক এবং সাটা সিডি/ডিভিডি রমের জন্য ১৫ পিনের এই কানেক্টরস ব্যবহার করা হয়। সাটা কানেক্টরের পাওয়ার হচ্ছে যথাক্রমে ১২ ও ৫ এবং ৩.৩ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

এখানেও লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, হলুদ রঙ এর তারে +১২ ভোল্ট, লালে +৫ ভোল্ট, ধূসর রংয়ে +৩.৩ এবং কালো হচ্ছে গ্রাউন্ড।

) ৬ পিন PCI Express কানেক্টরঃ

Low End Graphics কার্ডে আলাদা বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়ই না। কিন্তু আধুনিক  High End Graphics কার্ডে আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন একটি বা দুইটি ৬ পিন PCI Express কানেক্টর প্রয়োজন হয়। ৬ পিন PCI Express কানেক্টর গ্রাফিক্স কার্ডে সর্বোচ্চ ৭৫ ওয়াট এক্সটা ভোল্টেজ সাপ্লাই দিতে পারে।

এখানেও লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে, হলুদ রঙ এর তারে +১২ এবং কালো হচ্ছে গ্রাউন্ড। পিন ১২ ভোল্ট ATX পাওয়ার কানেক্টর  এবং ৬ পিন PCI Express কানেক্টরের মধ্যে পিনের তুলনামুলক বিদ্যুৎ সরবরাহের চিত্র দেখানো হলো।

)  পিন PCI Express কানেক্টরঃ  

যেখানে ৬ পিন পিসিআই-ই কানেক্টর সর্বচ্চো ৭৫ ওয়াট বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিতে পারে  সেখানে ৮ পিন পিসিআই-ই কানেক্টর সর্বচ্চো ১৫০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিতে পারে। এই কানেক্টর টি দেখতে অনেকটা EPS 8 pin 12 volt cable এর মত। তবে একটি পোর্টের সাথে অন্যটি ইনপুট হবে না কারন এখানে প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদ খাঁজ কাটা আছে।

 পিন PCI Express  কানেক্টরটির পাওয়ার পিনআউট চিত্র তুলে ধরা হলো।

৯) ৬ পিন আউক্স পাওয়ার কানেক্টরঃ

 এই পাওয়ার কানেক্টর টির, সাধারন কম্পিউটার এ তেমন একটা কাজে না লাগলেও বিভিন্ন ধরনের এক্সপেনশন কার্ড এ এই ধরনের পাওয়ার কানেক্টর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৬ পিন আউক্স পাওয়ার কানেক্টরটির পাওয়ার পিনআউট চিত্র তুলে ধরা হলো।

কম্পিউটারের পাওয়ার  ‍সাপ্লাই অনলাইনে পরখ করে নিন

আপনার কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ অনুযায়ী পাওয়ার সাপ্লাই রয়েছে কিনা তা অনলাইনের পরখ করুন। নিচে লিংকগুলোতে এক্সেস করে রেজাল্ট দেখুন এবং কোন রকমের অস্বাভাবিক রেজাল্ট আসলে পাওয়ার সাপ্লাই বদলে ফেলুন। ক্যালকুলেটরে হিসেব করে যে পরিমান ওয়াট দেখাবে, তার চাইতে আরো ৩০%-৩৫% বেশি ক্ষমতা সম্পূর্ন পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করবেন।

নিচের  অনলাইন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের হিসাব-নিকাষ করার কয়েকটি ওয়েব সাইটের লিংকগুলোতে ঘুরে আসতে পারেন।

Newegg.com : Newegg.com

MSI.com: MSI.com

Power Supply Calculator: Power Supply Calculator

 

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সাধারন সমস্যা এবং  সমস্যা বুঝার উপায়ঃ

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের নিচের লক্ষনগুলো উপস্থিত থাকলে বুঝতে হবে পাওয়ার সাপ্লাই সমস্যা রয়েছে।

১) পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ফ্যান ঘুরে না।
২) পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ফ্যান ধীরে ধীরে ঘুরে।
৩) পাওয়ার সাপ্লাই থেকে বিভিন্ন প্রকারের আওয়াজ হয়।
৪) পিসি রিষ্টার্ট নেবে বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
৫) দীর্ঘ সময়ের পর কম্পিউটার চালু দিলে, পাওয়ার অন না হওয়া। এ অবস্থায় পাচঁ-দশ মিনিট পর আবার চালু দিলে কম্পিউটার চালু হওয়া।

৬) Auto Shut Down হলে ১৫-২০ মিনিটের আগে হয় না।
৭)  Sag/Under Voltage: স্বল্প সময়ের জন্য ভোল্টেজ ডাউন হয়ে যায়।
৮)  স্বল্প সময়ের জন্য ভোল্টেজ হাই হয়ে যায় ।
৯) Brownout: সবসময়ের জন্য ভোল্টেজ নির্দিষ্ট মাত্রার  চাইতে কম ভোল্টেজ সরবরাহ করে।
১০)  Sweell/Over-voltage: সবসময়ের জন্য ভোল্টেজ নির্দিষ্ট মাত্রার  চাইতে বেশি ভোল্টেজ সরবরাহ করে।

 

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সমস্যার কারনে কম্পিউটারে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি  হয়ঃ

কম্পিউটারে জটিল সমস্যাগুলোর সৃষ্টির পেছনে সরাসরি জড়িত  এবং দায়ী পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট তার নিজস্ব সমস্যার কারণে কম্পিউটারের যে কোন হার্ডওয়্যার নষ্ট এমনকি পুড়িঁয়ে দিতে সক্ষম। নিজে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের কারণে সৃষ্ট কিছু উল্লেখযোগ্য সমস্যার চিত্র তুলে ধরা হলো।
১। কম্পিউটারের সিস্টেম হ্যাং  করাঃ  Sag/Under Voltage হবার কারণে স্বল্প সময়ের জন্য পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে ভোল্টেজ ডাউন হয়ে যায়। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ভোল্টেজ আপ-ডাউন করা, ভোল্টেজ ড্রপ করা, ভোল্টেজ নয়েজ  এর কারণে কম্পিউটারের সিস্টেম হ্যাং করা একটি অন্যতম কারন।
২| Burnt (পুড়েঁ যাওয়া): voltage spikes মানে স্বল্প সময়ের জন্য ভোল্টেজ হাই হয়ে যাওয়ার। ফলে

কম্পিউটারের যে কোন হার্ডওয়্যারকে নষ্ট এমনকি পুড়িঁয়ে দিতে সক্ষম। যে কোন হার্ডওয়্যার সম্পূর্নরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
৩। সিস্টেম অতিরিক্ত গরম: Sag/Under Voltage (ভোল্টেজ আপ-ডাউন), voltage spikes (হাই ভোল্টেজ,), Brownout (কমমাত্রার ভোল্টেজ), Sweell/Over-voltage (মাত্রাতিরিক্ত ভোল্টেজ) এবং Loose Connection (ঢিলেঢালা সংযোগ) ইত্যাদি বিষয়গুলোর কারণে সিস্টেম মাত্রাতিরিক্ত গরম হওয়ার অন্যতম কারণ পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট।
৪। Computer Auto Restart & Auto Shut Down: Sag/Under Voltage (ভোল্টেজ আপ-ডাউন) এবং Brownout (কমমাত্রার ভোল্টেজ) কারণে পাওয়ার সাপ্লাই পর্যাপ্ত এবং সঠিকমাত্রায় ভোল্টেজ ডিভাইসে সরবরাহ করতে না পারলে কম্পিউটার রিষ্টার্ট নেয় এমনকি একবারে বন্ধও হয়ে যায়।
৫। হার্ড ডিস্ক সমস্যা: Sag/Under Voltage (ভোল্টেজ আপ-ডাউন) এবং Brownout (কমমাত্রার ভোল্টেজ) কারণে পাওয়ার সাপ্লাই পর্যাপ্ত এবং সঠিকমাত্রায় ভোল্টেজ সরবরাহ করতে না পারলে হার্ডডিস্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। Sweell/Over-voltage (মাত্রাতিরিক্ত ভোল্টেজ) এর জন্য হার্ডডিস্ক পুড়েঁ যেতে পারে। সঠিকমাত্রায় ভোল্টেজ সরবরাহ না হলে হার্ডডিস্কের ব্যাড সেক্টর বা পাওয়ার ডেড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

। Hardware Failure:  Brownout (কমমাত্রার ভোল্টেজ) অর্থ্যা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট সবসময়ের জন্য ভোল্টেজ নির্দিষ্ট মাত্রার  চাইতে কম ভোল্টেজ সরবরাহ করলে কম্পিউটারের Hardware Failure করবে। ধরুন হার্ডডিস্কের জন্য +১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ লাগবে কিন্তু পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট সেই মাত্রায় বিদ্যু সরবরাহ করতে পারছে না তখন হার্ডডিস্কের সংযোগ সিস্টেম খুজেঁ পাবে না। ফলে মনিটরের স্ক্রীণে Boot disk failure বার্তা আসবে।

। কম্পিউটারে  Display সংক্রান্ত সমস্যাঃ পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যদি র‌্যামের জন্য প্রয়োজনীয়  +3.3V Rail মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারে তবে র‌্যাম ফল্ট (Failure) করবে। ফলে কম্পিউটারের ডিসপ্লে আসবে না।

। কম্পিউটারের র্স্টাট সংক্রান্ত সমস্যাঃ কম্পিউটারে প্রসেসের ইউনিটকে সক্রিয় করার জন্য +12V Rail বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যদি সেই মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারে তবে প্রসেসর ইউনিট ক্ষনিকের জন্য চালু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে যাবে। পুনরায় চালু হয়ে আবার বন্ধ হবে-এমনটা চলতেই থাকবে।

 

পাওয়ার সাপ্লাইয়ের যত্নঃ

১। ধূলিকণা যে কোন ইলেকট্রিক যন্ত্রের জন্যই হুমকিস্বরুপ। তাই পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ভিতেরে  ময়লা জমলে তা পরিস্কার করতে হবে।

২। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ফ্যান ঠিকমত ঘুরে কিনা, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কোন কিছুর দ্বারা ফ্যান ঘুরা বাধাপ্রাপ্ত হয় কিনা খেয়াল রাখা।
৩। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ইনপুট আউটপুট পয়েন্টে যেন লুজ কানেকশান না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

৪। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট পরিক্ষা করাঃ

কম্পিউটার ছাড়াও আপনি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট চেক করতে পারবেন। নিচের চিত্রটি ভালোভাবে লক্ষ্য করে ভালোভাবে বুঝে তারপর অতি সাবধানতারসহিত পরিক্ষাটা করবেন।

সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাওয়ার সাপ্লাই টিকে সিপিইউ থেকে খুলে একেবারে বাইরে বের করে নিন। চিত্রে লাল বক্স র্মাক পয়েন্টটি ভালোভাবে দেখুন । ২০ পিন বা ২৪ পিন কানেক্টরের ১৫ এবং ১৬ নং কানেক্টর ক্যাবেল (কালো এবং গ্রীণ রঙ) দুটি একটি তার দিয়ে সংযোগ করে নিন। সেই তারে যেন আপনার হাত না লাগে এবং শুকনা কাঠের উপর রেখে বিদ্যুতের পাওয়ার ক্যাবেল সংযোগ লাগিয়ে নিন। এতে যদি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ফ্যান ঘুরে তবে তা ভালো এবং যদি ফ্যান না ঘুরে তবে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি খারাপ। এবার বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে ফেলুন।

 

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহারের একটি উদাসীনতা চিত্রঃ

আমরা মাত্র ৫৫০-৬৫০ টাকা বাচাঁনোর নামে কয়েক হাজার টাকার মূল্যবান কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বা ডিভিডি রমের ক্ষতি সাধন করি। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের  পিন মোলেক্স (4 pin molex) কানেক্টরকে ‍সাটা পাওয়ার ক্যাবেলের সাথে সংযোগ করে সাটা হার্ডডিস্ক বা ডিভিডি রমে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহার করি। অনেক সময়েই ঢিলেঢালা সংযোগের কারণে হার্ডডিস্ক বা ডিভিডি রম সিস্টেম খুঁজে পায় না। উইন্ডোজ বুটআপও হয় না। আবার সিস্টেম হ্যাং ও করে। এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চলমান থাকার কারণে হার্ডডিস্কে ব্যাড সেক্টর পড়া এমনকি নষ্ট হয়েও যেতে পারে।

আশা করি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বিষয়ক এই মেগাপোস্টটি পড়ে আমরা সবাই উপকৃত হবো। সবাই ভালো থাকবেন।