Podcast কি?

Podcast (পডকাস্ট) হচ্ছে এক ধরনের অডিও শো বা সিরিজ যা মোবাইল বা কম্পিউটার ডিভাইসে ধারণ করে যেকোন সময় বা যেকোন পরিস্থিতিতে শুনা যায়। পডকাস্ট রেডিও এর মত অডিও সম্প্রচার। কিন্তু রেডিও এবং পডকাস্টের মধ্যে পার্থক্য আছে। রেডিও সম্প্রচার কে ব্রডকাস্ট বলে। পডকাস্ট শুধুমাত্র অনলাইন এর মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।

ব্রডকাস্ট তার নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্প্রচার করে থাকে। টিভি চ্যানেল MTV এর উপস্থাপক অ্যাডাম কারি পডকাস্ট এর প্রবর্তক। তিনি সর্বপ্রথম পডকাস্ট এর চিন্তা করেন। এখন পডকাস্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

কোন অডিও ফাইল রেকডিং করে ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে প্রচার করা কে Podcast বলে। পডকাস্ট করার জন্য দরকার অডিও রেকডিং মাইক্রোফোন এবং ইডিটিং সফটাওয়ার এবং একটি ওয়েব সাইট যার মাধ্যমে প্রচার করা হয়। রেকডিং এর সময় অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়ার জন্য অবশ্য ই ইডিটিং দরকার। এই সাইটে একটি সাবস্কাইব অপশান থাকে। শ্রোতা যখন Podcast শুনবে তখন ইউটিউব এর মত সাবস্কাইব করে রাখতে পারবে। পরে যে কোন সময় শুনতে পারে। পডকাস্ট এ দুই ধরনের সম্প্রচার হয়ে থাকে একটি লাইভ সম্প্রচার। অন্যটি সংরক্ষিত রেকডিং সম্প্রচার।

তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে দেশে-বিদেশে পডকাস্টের বিফুল সম্ভাবনার খাত তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত এর অডিয়েন্স জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যুক্তরাষ্টে ২০০৯ সালে অডিয়েন্সের সংখ্যা ছিল ২৫ মিলিয়ন এবং ২০১৪ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ মিলিয়নে। চিন্তা করে দেখুন ৫ বছরে ৩ গুণ অডিয়েন্স বৃদ্ধি পেয়েছে যা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলছেই। পডকাস্টের সুবিধা উপভোগের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে যার মধ্যে মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার, ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও পডকাস্টের এপস সহ নানাবিধ মাধ্যম বেশ জনপ্রিয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারী লোকজনই পডকাস্টের মূল অডিয়েন্স এবং অধিকাংশই পডকাস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

podcast

 

পডকাস্ট এর জন্য কি কি বিষয় নজর দিতে হবে:

১) পরিস্কার সাউন্ড পডকাস্ট এর জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। ভয়েস সুন্দর এবং নয়েজ বিহীন না হলে দর্শক আর্কষন করা কঠিন হবে।

২) যে সাইটের মাধ্যমে পডকাস্ট করব যে সাইটের লোডিং স্পিড অবশ্যই ভাল হতে হবে। লোডিং স্পিড ভাল না হলে নিয়মিত ভিজিটর পাওয়া যাবে না।

৩) পডকাস্ট করার জন্য অবশ্যই আকর্ষণীয় ডিজাইনের সাইট হতে হবে।

৪) পডকাস্ট করার জন্য যে কোন একটি বিষয় বেছে নিলে ভাল হয়। যেমন: খেলাধুলা, বিনোদন, সাহিত্য, রিয়েল লাইভ সলুশান, সমসাময়িক ঘটানা প্রবাহ। যে কোন একটি বিষয় সিলেক্ট করে পডকাস্ট করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

৫) সমসাময়িক বিষয় নিয়ে করা পডকাস্ট গুলো হিট হয়। যেমন বিশেষ কোন ঘটনা বা বিশেষ কোন দিন নিয়ে করা পডকাস্ট। তাই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পডকাস্ট করার চেষ্টা করতে হবে।

৬) আঞ্চলিক ভাষা পরিহার করা উচিত।

৭) কোন নিদিষ্ট লোকেশান টার্গেট করে কাজ করলে অবশ্যই ভাষার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ধরুন আপনি ইংল্যান্ড কে টার্গেট করে পডকাস্ট করছেন। তাহলে আপনার ভাষা অবশ্য ইংরেজি হতে হবে। বাংলাদেশের ভিজিটর নিয়ে কাজ করলে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা উচিত।

৮) কয়েকজন মিলে পডকাস্ট করলে সব সময় আকর্ষণীয় হয়। যেমন আজ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ক্রিকেট খেলা ছিল। বাংলাদেশ খেলায় জিতে গিয়েছে। এই খেলার হার জিত নিয়ে বিশ্লষনধর্মী পডকাস্ট করা যেতে পারে।

৯) পডকাস্ট করার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বার্তা পরিহার করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললে শ্রোতা বিরক্ত হতে পারে।

১০) পডকাস্টের অডিও ফাইল 2MB হতে হবে।

podcast

পডকাস্ট করার জন্য কি কি দরকার?

১) অডিও রেকডিং মাইক্রোফোন। (মোবাইল দিয়ে ও রেকডিং করা যাবে )

২) ডোমেইন হোস্টিং সহ একটি ওয়েব সাইট।

৩) অডিও ইডিটিং সফটাওয়ার।

podcast

পডকাস্ট দিন দিন কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে?

ব্যাস্তময় জগতে মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। তাই সময় বের করে টিভি  বা রেডিও শোনা ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয় না। পডকাস্ট শুনতে কোন অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয় না। যে কোন সময় যে কোন কাজ করার পাশাপাশি শুনা যায়। যে কোন ধরনের ডিভাইস থেকে খুব সহজে পডকাস্ট শোনা যায়। এটি শোনার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ের প্রয়োজন হয় না। রেডিও তে কোন অনুষ্ঠান যেমন নির্দিষ্ট সময়ে হয়। তাই রেডিও শুনতে হলে সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে পডকাস্ট যে কোন সময় ইচ্ছা মত শোনা যায়। আবার ডাউনলোড করে রাখলে নিজের যখন শুনতে ইচ্ছা হবে।তখন শোনা যাবে। তাই পডকাস্ট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।ধারণা করা হচ্ছে ২০১৮ সালে পডকাস্টের ad reveiew হবে 400 মিলিয়ন ইউ এস ডলার। যেখানে এক বছরে রেডিও থেকে ad reveiew আসে 18 বিলিয়ন ইউ এস ডলার। রেডিও ইনডাস্ট্রির সাথে যারা জড়িত আছে তারা এখন বুঝতে পেরেছে। তাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। তাই তারা পডকাস্ট নিয়ে জানতে শুরু করেছে। এক সময় টিভি চ্যানেল ছিল ভিডিও দেখার এক মাত্র মাধ্যম। কিন্তু ইউটিউব সহ বিভিন্ন ভিডিও শেয়ারিং সাইট যেমন টিভি চ্যানেল এর জায়গা দখল করে নিয়েছে। ঠিক তেমনি পডকাস্ট রেডিও এর জায়গা দখল করতে চলেছে।

ছোট একটি উদাহরণ দিলে বিষয় টা পরিস্কার হবে। আজ টিভি তে খুব ভাল একটি ছবি হচ্ছে। ছবি টি দেখতে খুব ই মন চাচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই ঠিক এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় ছবি টি দেখতে পারছি না। তাই বলে মন খারাপ হওয়ার কোন কারণ নেই। কারন আমি সময় পেলে ইউটিউব থেকে যে কোন সময় মুভি টি দেখে নিতে পারব। পডকাস্ট এর ক্ষেত্র ও ঠিক একই রকম। একসময় বিঞ্জাপনের জন্য শুধু টিভি চ্যানেল এর উপর নির্ভর করত বিঞ্জাপন দাতারা। কিন্তু এখন টিভি চ্যানেল থেকে ইউটিউব, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয় সাইট গুলোর তে বিঞ্জাপনের হার অনেক বেশি। সব কম্পানি তাদের পন্যের ডিজিটাল মারকেটিং করে থাকে। পডকাস্ট সাইট খুব ই জনপ্রিয় হলে বিঞ্জাপন দাতারা বিঞ্জাপন দিবে। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যাবসায় খুব রমারমা অবস্থা। ই-কমার্স ব্যাবসায়ীরা পন্য সেল করার জন্য অ্যাফিলিয়েট কমিশান দিয়ে থাকে। মারকেটার রা। ওয়েব সাইট ,সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব এর মাধ্যমে পন্যের প্রচার করে ক্রেতাকে পন্য কিনতে আগ্রহী করে। সামনে দিন আসছে মারকেটার রা বা ই-কমার্স ব্যাবসায়ী রা পডকাস্ট এর মাধ্যমে তাদের পন্য আকর্ষণীয় ভাবে ক্রেতার নিকট উপস্থাপন করবে। তাই পডকাস্ট এর দিকে নজর দেওয়ার সময় এসে গেছে। এটি বিলিয়ন ডলারের ইনডাস্ট্রির হবে একদিন।

আগে বিনোদন বা নিউজ পাওয়ার জন্য রেডিও ছিল অন্যতম একটি মাধ্যম কিন্তু বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির উদ্ভাবনে রেডিওর স্থলে পডকাস্টের উত্থান বেশ আশাব্যঞ্জক।রেডিও প্রোগ্রামের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্টুডিও ও একটি টিমওয়ার্কের প্রয়োজন ছিল কিন্তু পডকাস্টের জন্য আপনি চাইলে আপনার ব্যক্তিগত কক্ষকেই স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি চাইলে তা একাকী করতে পারেন অথবা কয়েকজনের টিমওয়ার্কেও করতে পারেন। পডকাস্টের একটি বড় সুবিধা হলো যেকোন জায়গায় যেকোন পরিস্থিতিতে পডকাস্টের মাধ্যমে প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারেন বা শ্রবণ করতে পারেন এবং এই সুবিধাটিই রেডিও প্রযুক্তি থেকে পডকাস্টকে পৃথক ও অনন্য করেছে। পডকাস্টকে আপনি বিনোদন বা শিক্ষামূলক যেকোন মাধ্যমেই কাজে লাগাতে পারেন। যেকোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর সিরিজ আকারে প্রোগ্রাম প্রচার করতে পারেন। আপনার ব্যক্তিত্বকে অডিয়েন্সের নিকট তুলে ধরার জন্য পডকাস্টই সেরা মাধ্যম হতে পারে। মত প্রকাশের খুব স্বাধীন একটি মাধ্যম হচ্ছে পডকাস্ট যেখানে কনটেন্ট প্রচারের জন্য আপনি সর্বোচ্চ স্বাধীনতা উপভোগ করবেন।পডকাস্টে আপনি যা ইচ্ছে তাই শুনাতে পারেন এবং যা শুনতে চান তাই শুনতে পারেন মানে উভয়ের জন্য রয়েছে অফুরন্ত স্বাধীনতা। পডকাস্টের সুবিধা আপনি অন্য যেকোন কাজের পাশাপাশিই বা যেকোন স্থানে ও যেকোন পরিস্থিতিতেই উপভোগ করতে পারেন যা অন্য কোন মিডিয়ায় আপনি পাবেন না।