Headphone, বর্তমান যুগে অনেকেই আছে যারা হেডফোন ছাড়া চলতে পারেননা। তবে সমস্যা হচ্ছে এই যে, আমরা একবার ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা যে, কোন হেডফোনটি আমার জন্য সঠিক হবে, তাই আসুন জেনে নেই Headphone এর রকমভেদ।

 

১. ইন-এয়ার হেডফোনঃ

ইন এয়ার হেডফোন আবার দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে এয়ার বাড যা কানের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়  এবং আরেকটি হচ্ছে ক্যাভিটি এয়ারফোন, এটি কানের ক্যাভিটি এর ভেতর স্থাপন করা হয় তাই এই নাম।

এয়ার বাড হেডফোন খুবই আরামদায়ক কারন এটি খুব সহজেই কানের ভিতর ফিট করা যায়, এবং এতে বাহিরের নয়েজও আসেনা। এক্ষেত্রে ক্যাভিটি হেডফোন যদি কানের থেকে মাপে কমবেশী হয় তাহলে কানে চাপ পরে এবং ব্যাথা হতে পারে।

 

২. অন-এয়ার হেডফোনঃ

 

অন-এয়ার হেডফোনও দুই ধরনের হয়ে থাকে। এই দুইটি হেডফোনই কানের বাহিরে স্থাপন করতে হয়, একটি খুবই লাইট ওয়েট যার দরুন খুব সহজেই বহন করা যায়। দ্বিতীয়টি তুলনামুলকভাবে ভারি এবং বড়। যার কারনে এটি কানের প্রায় ৯৫% ভাগ ঢেকে যায়। ইদানিং অনেকেই স্টাইল করার জন্য দ্বিতীয়টি পছন্দ করে থাকেন।

 

৩. ওয়্যারলেস হেডফোনঃ

ওয়্যারলেস হেডফোন মানে তারহীন হেডফোন, উপরের যতগুলো হেডফোন এর আলোচনা করা হয়েছে সবগুলোরই তারহীন সংস্করন আছে। তবে ওয়্যারলেস হেডফোন এর দাম অন্যান্য হেডফোনের চাইতে বেশি। ট্রাভেলিং, জগিং বা হাটাহাটির সময় বা আউটসাইডে ব্যবহার করার জন্য ওয়্যারলেস হেডফোন উপযুক্ত । তবে ওয়্যারলেস হেডফোন তারওয়ালা হেডফোন এর মত শব্দ প্রোডিউস করতে পারেনা।

স্পেসিফিকেশনঃ

প্রতিটি হেডফোন এর ম্যাগনেট থেকে শুরু করে ওয়্যারলেস টেকনোলজি পর্যন্ত কিছু স্পেসিফিকেশন আছে, যা নিচে আলোচনা করা হলো।

০১. Acoustic System

Acoustic বলতে এয়ারফোনের ক্ষেত্রে এর ডিজাইন কে বুঝায়। হেডফোন যদি বদ্ধ Acoustic এর হয় তাহলে সেটা বাহিরের শব্দ ভিতরে আসা প্রতিরোধ করবে। তবে অনেক সময় বদ্ধ Acoustic ১০০% নয়েজ ফ্রি হয়না।

০২. Frequency Response

একটি হেডফোনের Frequency যত বেশি ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ কাভার করতে পারবে সেই হেডফোনের সাউন্ড কোয়ালিটিও তত ভাল হবে। ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ Hz  দ্বারা পরিমাপ হয়ে থাকে।

০৩. Impedance

হেডফোনের Impedance হচ্ছে ইলেকট্রিক সার্কিট এর রেজিস্টেন্স এর তড়িত সিগন্যাল। বেশি Impedance থাকার অর্থ কম ইলেকট্রিক সিগনাল এবং কম সাউন্ড কোয়ালিটি। ভালো মানের হেডফোনের Impedance এর মাত্রা কম থাকে।

০৪. সেন্সিটিভিটি

dB/mW হচ্ছে সেন্সিটিভিটি পরিমাপের একক। এর দ্বারা প্রকাশ পায় ১ মিলিওয়াট ইলেকট্রিক সিগনালে কতটুকু শব্দ হেডফোনটি দিতে পারবে। মোটামুটি ৮০-১১০ dW সেন্সিটিভিটি মানের হেডফোন ভালো সাউন্ড দেয়।

০৫. Diaphragm

হেডফোনের ভিতর এর মেমব্রেন যেটা কাপে এবং শব্দ উৎপাদন করে থাকে তাকে Diaphragm বলে। Diaphragm ম্যাটেরিয়াল ভালো মানের হয় তাহলে এর সাউন্ড কোয়ালিটিও ভালো হবে।

০৬. Voice Coil

ভয়েস কয়েল হচ্ছে হেডফোনের ম্যাগনেটের সাথে যে কয়েল ব্যবহার করা হয় সেটা। কপার, অ্যালুমিনিয়াম, কপার ক্ল্যাড অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি ম্যাটেরিয়াল দ্বারা এই কয়েল তৈরি হয়ে থাকে। অ্যালুমিনিয়াম কপার এর সাউন্ড সেন্সিভিটি খুব ভালো তবে কপার কয়েল এর মত টেকসই হয়না। তাই বর্তমানে ভালো হেডফোন গুলোতে কপার-ক্ল্যাড অ্যালুমিনিয়াম কয়েল ব্যাবহার করা হয়।

সর্বশেষে বলতে চাই, হেডফোন বারবার না কিনে দেখে শুনে একটু দাম বেশি হলেও ভালোমানে হেডফোন কিনুন। তা না হলে কানেরও সমস্যা হতে পারে আবার ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি নাও পেতে পারেন।

ধন্যবাদ।