আমার সবাই অনলাইন গেইমের সাথে পরিচিত। কিন্তু আপনারা কি এখনও পযর্ন্ত অনলাইন Blue Whale গেইমের কথা শুনেছেন? এটা এমন এক বিপদজনক গেইম, যার গেইম ওভার হয় মৃত্যু বা আত্মহত্যার মাধ্যমে। Blue Whale গেইমটি ‘A Silent House’, ‘A Sea Of Whales’, ‘Wake Me Up At 4:20 am’ নামেও পরিচিত। আজকে আপনাদের সাথে এই বিপদজনক অনলাইন গেইম Blue Whale নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

Blue Whale হলো এমন একটি অনলাইন গেইম যে গেইমটি আপনি গুগল প্লে স্টোর, বিভিন্ন অ্যাপস্টোর, গুগলে র্সাচ করে ইন্টারনেটের সার্ফেস ওয়েবের (Surface Web) কোথাও খুঁজে পাবেন না। কারণ এই গেইমটি পাবেন শুধুমাত্র বিশেষ কোন লিংকের মাধ্যমে, ডার্ক ওয়েব (Dark Web) ইন্টারনেট জগত থেকে এবং এই ইন্টারনেট জগত পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও অবৈধ। এটা একটি অনলাইন ভিত্তিক সুইসাইড গেইম আর এই গেইমের ফাঁদে পড়লে মৃত্যু অনিবার্য! হয়তো ভাবছেন এটা কিভাবে সম্ভব! একটি অনলাইন গেইম কিভাবে একটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে, আদৌ কি এই গেইমের মাধ্যমে একজন মানুষের মৃত্যু হতে পারে?

 
প্রথমে জেনে নেই Blue Whale  কি? আমরা সবাই জানি যে আক্ষরিক অর্থে Blue Whale মানে নীল তিমি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হলো নীল তিমি-এটি সামুদ্রিক এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী। আর নীল তিমিরা কিন্তু মৃত্যুর আগে সমুদ্রের কিণারায় উঠে আসে, যেন তারা আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। আর এ কারণেই গেইমটির নাম Blue Whale রাখা হয়েছে।
Blue Whale গেইম তার ভিকটিমকে বাধ্য করে গেইমের সবগুলো লেভেলই খেলার জন্য। গেইমটি ৫০ টি লেভেলে বিভক্ত। এফ ফিফটি সেভেন নামক এক রাশিয়ান হ্যাকার গ্রূপ গেইমটি তৈরি করে। গেইমটি প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালে। গেইমটি শুরুতে তেমন পরিতিচি লাভে সক্ষম না হলেও ২০১৫ সালে গেইমটি ভিকে.কম নামক একটি সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রচুর ডাউনলোড করা হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। গেইমটির মাস্টার মাইন্ডে ছিলো ফিলিপ বুদেইকিন নামে এক রাশিয়ান যুবক। সে রাশিয়ান একটি র্ভাসিটিতে সাইকোলজির ছাত্র ছিল। র্ভাসিটি থেকে বহিস্কার হবার পরই তিনি এই গেইমটি তৈরিতে মনোনিবেশ করেন। রাশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তিনি গ্রেফতারও হন এবং জবানবন্দীতে তিনি বলেন যে “যারা সমাজে হতাশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, প্রতিনিয়ত যারা আত্মহত্যার কথা ভাবেন তাদের আত্মহত্যার জন্য মজাদার পথ বাতলাতেই এই গেমের ভাবনা। এমনকি তাদের এই সমাজে বেচেঁ থাকার কোন অধিকার নাই। তারা সমাজের একটা বোঝা এবং সে এই বোঝা পরিস্কার করার দায়িত্ব নিয়েছে।”

Blue Whale গেইমটির শিকার হয়ে রাশিয়ার ১৩০ জন ছেলেমেয়ের মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ার বাহিরে অন্যান্য দেশের মৃত্যু ঘটেছে আরো প্রায় ৫০ জনের। য়ুলিয়া কনস্তান্তিনোভা (১৫) এবং ভেরোনিকা ভলকোভা (১৪) নামক দুই বোন সর্বপ্রথমই এই গেইমটির শিকার হন। গেইমটির ৫০ তম লেভেলে গিয়ে দুই বোনই ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সুইসাইডের পূর্বে য়ুলিয়া কনস্তান্তিনোভা তার সোস্যাল মিডিয়ার একটি নীল তিমির ছবি আপলোড দিয়ে লিখেছিলেন “দি ইন্ড” এবং তার অপর বোন ভরোনিকা ভলকোভা লিখেছিল “দ্যা সেন্স ইজ লস্ট”। ইউটিউভে তাদের আত্মহত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

Blue Whale গেমইটির এবার একটু গেইম প্লে ধারণা দিচ্ছি, কারণ আমি নিজেই এই গেইমটি খেলে দেখিনি এবং তার ইচ্ছাও নেই। প্রথমেই বলে নেই যে, Blue Whale গেইমটি মূলত একটি ডার্ক ওয়েবের গেইম। প্রশ্ন হলো- এই ডার্ক ওয়েব আবার কি? ডার্ক ওয়েব হলো আমরা যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি তার একটি বিশাল অন্ধকার জগত আছে, যে জগত কখনও আমাদের সামনে আসে না। আর সেই অজানা ডার্ক ওয়েব জগতে চলে নানাবিধ অবৈধ কাজকর্ম। আর এই অন্ধকার জগত থেকেই Blue Whale গেইমটির উৎপত্তি। গেইমটি বিশেষ এমন এক উপায়ে তৈরি করা হয়েছে যে, একবার আপনি গেইমটি ইনস্টল করে ফেললে তা আর রিমুভ করতে পারবেন না। গেইমটি আপনার মোবাইল ডিভাইসের সিস্টেমের মধ্যে ডুকে যাবে এবং আপনার সকল ইনফরমেশন হাতিয়ে নেয়া শুরু করবে। যেমন আপনার ইন্টারনেট আইপি এ্যাডড্রেস, আপনার লোকেশন, সকলপ্রকার সোস্যাল মিডিয়ার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড, ই-মেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড, ফোনবুকলিস্ট, ফটো গ্যালারি এমনকি ব্যাংকের তথ্যাবলীও। মোটকথা আপনার ডিভাইসটির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হ্যাকারদের কন্ট্রোলে চলে গেছে।

Blue Whale গেইমটি যখন চালু করা হয় তখন সেই ইউজারকে কন্ট্রোল বা নির্দেশনা দেয় গেইমটির একজন অ্যাডমিন। গেইমটি শুরু করার পূর্বেই অ্যাডমিন সেই ইউজারকে নির্দেশনামূলক প্রশ্ন করে যে, তুমি যদি একবার এই গেইমটি খেলা শুরু করো তবে আর এই গেইম খেলা থেকে বের হতে পারবে না এবং গেইমটির সর্বশেষ ফলাফল হতে পারে তোমার মৃত্যু। তুমি কি গেইমটি খেলতে চাও? যদি গেইমটি খেলতে চাও তবে ইয়েস লিখো আর যদি খেলতে না চাও তবে এখুনি গেইম থেকে বেরিয়ে যাও। ইউজার তখন হয়তো চিন্তা করে একটি সাধারণ গেইমই তো খেলবো আর এই গেইম কিভাবে আমার মৃত্যুর কারণ হতে পারে? ফলে সে ইয়েস লিখে নিজের অজান্তে পা দিয়ে ফেলে ভয়ংকর এক মৃত্যুর ফাঁদে।

গেইমটির প্রথম ১০ লেভেল খুবই আকর্ষনীয়। এই লেভেলগুলোতে ইউজারকে কিছু ইন্টারেস্টিং কাজ করতে বলা হয়। শুরুতে তেমন আহামরি কিছু থাকে না বরং বেশ মজারই। যেমন, হাতে এফ ফিফটি সেভেন রেজার সাথে নিয়ে ছবি তুলে পাঠানো, রাত ৪ টা ২০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠে ভীতিকর কিংবা ভৌতিক (হরর) মুভি দেখা, শিরা বরাবর রেজার দিয়ে হাত কাটা, কাগজে নীল তিমির ছবি আঁকা, রাত ৪ টা ২০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠে উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদে যাওয়া ইত্যাদি চমকপ্রদ উপায়ে গেইমটির প্রতি ভিকটিমকে আগ্রহী করে তোলেন। আর এই লেভেলগুলো খেলার পাশাপাশি চলতে থাকে হ্যাকারদের তথ্য হাতিয়ে নেয়া।

এই ১০ লেভেল চ্যালেঞ্জ শেষ হবার পর ইউজারকে পরবর্তী ১০ লেভেলের জন্য প্রস্তুত করা হয় এবং ১৫ লেভেলের মধ্যেই ভিকটিমের যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেবার কাজ সম্পন্ন করে হ্যাকার টীম। ১৫ লেভেলের মধ্যে চ্যালেঞ্জ দেয়া শুরু হয় কঠিন থেকে কঠিনতর চ্যালেঞ্জ, শুরু হয় গেইমে আসক্ত ভিকটীমের দুঃখ-দূর্দশা। কঠিনতর চ্যালেঞ্জের মধ্যে হয়তো বা গেইমটির অ্যাডমিন গেইমারকে তার নিজের হাতে নীল তিমি ছবি আকঁতে বলবে ব্লেড দিয়ে কেটে কেটে অথবা অসংখ্য সুঁচ চামড়ার মধ্যে গেঁথে তার প্রমাণ জমা দিতে, তার মুখের ঠোঁট কেটে ছবি তুলে পাঠানো ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

আর ২০ তম চ্যালেঞ্জ শেষে Blue Whale অ্যাডমিন ২১ থেকে ৩০ তম লেভেলে ভিকটিমকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য তাদের কৌশল পরিবর্তন করে ফেলে। এখানে গেইমারের জীবন আরো দূর্বিষহ করে তুলে। শুরু হয় অদ্ভুদ ও ভয়ংকর লেভেলসমূহের চ্যালেঞ্জের খেলা। এই লেভেলগুলোতে শুরু হয় মস্তিষ্ক কন্ট্রোলের চেষ্টা। আর মস্তিষ্ক কন্ট্রোল কিংবা মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই কৌশলকে বলা হয়ে হিপপ্রোনিসেস। এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ভিকটিমকে হয়তো বলবে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে হালকা কাপড়ের জামা পড়ে ঘুড়ে বেঁড়াতে, সারাদিন না খেয়ে থাকা, পরিবারের সদস্যদের সাথে ঝগড়া করা, পরিবারের সদস্যদের থেকে টাকা চুরি করা, বন্ধু-বান্ধবের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরি করা এবং এই টাস্কগুলোর প্রমাণস্বরূপ ছবি তুলে অ্যাডমিনকে পাঠাতে হয়। এভাবেই ইউজারকে ২৫ লেভেল পযর্ন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। আর ২৫ লেভেলের পরে ইউজারকে ড্রাগ অর্থ্যাৎ মাদকদ্রব্য গ্রহনে অভ্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে মস্তিষ্ক কন্ট্রোল করার কৌশলের মাত্রা সূক্ষ্মভাবে আরো বাড়িয়ে ৩০ তম লেভেল সম্পূর্ন করা হয়। আর এই ৩০ লেভেল শেষে অ্যাডমিন পরবর্তী লেভেল বন্ধ করে রাখে। কিন্তু ইউজার এতটাই গেইমের প্রতি আসক্তি হয়ে পড়ে যে ৩১ তম লেভেল আনলক করার জন্য ব্যকুল হয়ে পড়ে এবং ৩১ তম লেভেল আনলক করার জন্য অ্যাডমিনকে বারবার অনুরোধ পাঠাতে থাকে। আর এভাবেই সে তার মৃত্যুর পথে অগ্রসর হতে থাকে।

 

Blue Whale  গেইমের ৩১ তম লেভেল আনলক হবার পর অ্যাডমিন ইউজারকে তার নগ্ন ছবি আপলোড দিতে বলে। আর ইউজার গেমের প্রতি তীব্র আসক্তি, নেশাগ্রস্ততার কিংবা মস্তিষ্কের বিভ্রান্তির কারণেই হোক সে তার নগ্ন ফটো আপলোড দিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে ব্ল্যাক মেইল করার হাতিয়ার অ্যাডমিন অনায়াসে পেয়েও যায়। পরবর্তীতে লেভেলগুলোতে তার ড্রাগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়া হয়। তারপর কারো সাথে সেক্স করার ছবি আপলোড করতে বলা হয়। শরীরের যে কোন জায়গাতে একসাথে ২৫-৩০ টি সুঁই গেঁথে তার প্রমান ছবি তুলে আপলোড করতে হয়। এভাবে ৪০ লেভেল পযর্ন্ত শেষ করে ভিকটিম ভয়ার্ত এবং আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সে আর ঐ গেইম খেলতে চায় না। বারবার Blue Whale  গেইমের  অ্যাডমিনকে অনুরোধ করে যে, সে আর গেমের ভয়াবহতা সহ্য করতে পারছে না, আমি গেইমটি রিমুভ করতে চাই, আমি এর থেকে মুক্তি চাই । আর তখনই শুরু হয় গেইমারকে ব্ল্যাক মেইলিং করা। অ্যাডমিন তখন গেইমারকে জানায় যে, তার নগ্ন ও সেক্সের ছবি, মাদকদ্রব্য গ্রহনের ছবি ইত্যাদি ইত্যাদি তার মা-বাবার কিংবা বন্ধু-বান্ধবের কাছে এমনকি পুলিশের কাছে প্রকাশ করে দিবে। প্রয়োজনে তার মা-বাবা কিংবা নিকট আত্মীয়-স্বজনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয় নেক্সট লেভেল খেলার জন্য। ফলে বাধ্য হয়ে ভয়ংকর সব টাস্ক শেষ করে গেইমার পৌঁছে যান ৫০ তম লেভেলে। আর তখনই অ্যাডমিন বলে যে, তুমি এই লেভেল শেষে মুক্তি পেয়ে যাবে, তোমার যাবতীয় তথ্যাদি ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তারপরই তোমার ডিভাইস থেকে গেইমটি মুছে ফেলতে পারবে। আর এই ৫০ তম লেভেলের খেলা শেষ করতে তোমাকে আমাদের কাছ থেকে একটি বিশেষ ড্রাগ সংগ্রহ করতে হবে এবং সেটি উচুঁ বিল্ডিংয়ের ছাদের কিনারায় গিয়ে পুঁশ করবে এবং প্রমাণস্বরূপ একটি সেলফি আপলোড করবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজার সেই ড্রাগ সংগ্রহ করে এবং তার নিয়ে যায় উচুঁ বিল্ডিংয়ের ছাদে। তারপর সেই ড্রাগ পুঁশ করে তার ছবি আপলোড করে অ্যাডমিনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। অ্যাডমিন তাকে কনগ্যাচুলেশন জানায় লেভেলটি শেষ করার জন্য। পরবর্তীতে অ্যাডমিন জানায় যে আজ থেকে তুমি মুক্ত, নিচের দিকে তাঁকিয়ে দেখো তোমার গন্তব্য, তাহলে আর দেরি করছো কেন? দ্রুত লাফ দাও। আর গেইমার সেই বিশেষ ড্রাগের কারণেই হোক কিংবা মস্তিষ্কের বিভ্রাতিতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দেয়। এভাবেই নিঃশেষ হয় একটি প্রাণের। আর Blue Whale গেইম অ্যাডমিন খুঁজতে থাকেন তাদের পরবর্তী শিকারকে।

 

Blue Whale গেইমের আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর সহজ, সুন্দর গ্রাফিক্স ইনটারফেইজ এবং ব্যাকগ্রাইন্ড মিউজিক। মিউজিক মানুষের মস্তিষ্ক কন্ট্রোল বা ব্রেইন ওয়াশ করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। গেইমটিতে বেশ কিছু ব্রেইন ওয়াশ করার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে। যার মধ্যে “অল আই ওয়ান্ট” এবং “রানওয়ে” গান দুটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। রহস্যজনক সত্য যে “রানওয়ে” গানটির কোথাও খুঁজে পাবেন না।

যারা Blue Whale গেইমে আসক্ত থাকেন তারা সোস্যাল মিডিয়া Blue  Whale, iamawhale, আই এম এ হোয়েল, নীল তিমির ছবি পোস্ট করে থাকে। এমন কিছু পোস্ট দেখে থাকলে সাথে সাথে উক্ত সংশ্লিষ্টব্যক্তিদের অভিভাবকদের নজরে আনার ব্যবস্থা করা উচিত না হলে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত আরো একটি মৃত্যু।
আমার একটি বিষয় মাথায় ঘুড়পাক খাচ্ছে হয়তো বা সে বিষয়টা আপনাদের মনেও আসতে পারে যে, আমি গেইমটি ইনস্টল করার পর তা আনইস্টল বা রিমুভ করতে পারছি না ঠিকই, কিনতু আমি আমার মোবাইল ধ্বংস করে দিলেই তো পাড়ি? প্রথমেই বলে দিয়েছি যে, ডার্ক ওয়েবের মধ্যে যারা বিচরণ করে সেই সব হ্যাকাররা অত্যন্ত বিপদজনক  আর আপনার সব তথ্যাদি তো তাদের হাতেই আগেই চলে গেছে। আপনার লোকেশন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আইপি এ্যাডড্রেস, আপনার ব্যক্তিগত আপত্তিজনক তথ্যাদি, ফটো সবই তো তাদের হাতের নাগালে। তারা চাইলে আবারও আপনাকে তাদের টার্গেটে পরিণত করতে পারবে।

আবার গেইমটি থেকে বের হয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাচঁলেন কিন্ত আপনার সেই গোপনীয় ছবিগুলো যখন দেখবেন সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে ইন্টারনেট জগতে ভেসে বেড়াচ্ছে তখন এই পৃথিবী থেকে আপনি এমনিতেই বিদায় নিতে চাইবেন। সেই আত্মহত্যাটি হবে স্বেচ্ছায়। কারণ এই মুখ যদি কাউকে দেখাতে না চান তবে তো এ পৃথিবী ছেড়ে আপনাকে যেতেই হবে!
Blue Whale গেইমটি থেকে আপনি চাইলেই কোনভাবেই বের হতে পারবেন না। গেইমটি মূলত টিনেজারদের টার্গেট করে বানানো হয়েছে। অর্থ্যাৎ ১৩-১৯ বয়সী ছেলেমেয়েরা টার্গেট করেই এ গেইমটি তৈরি করা। সম্প্রতি আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে অংকন নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। গোসলখানায় মুখে প্লাস্টিক জড়িয়ে কিছু একটা পরিক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলো অংকন। পরে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মৃত কিশোর অংকনের মোবাইল আর কম্পিউটার ঘেঁটে Blue Whale গেইমটির সন্ধান পান। গেইমটির লেভেলগুলো এতটা ভয়ংকর যে সে লেভেলগুলোর কোন একটি জয় করার সময়েই ঘটতে পারে মৃত্যু, অংকনের মৃত্যুই যার প্রমাণ। অপরদিকে কেরলের তিরুবনন্তপুরম শহরের পেরুকুলামের বাসিন্দা মনোজ সি মনু Blue Whale গেইমটির খপ্পরে পড়ে আত্মহত্যা করার আগে নিকট আত্মীয়দের উদ্দেশ্যে লিখেছিল, “আমি আত্মহত্যা করলে তোমরা কষ্ট পাবে?”

তাই আপনি যদি ই-মেইলে, সোস্যাল মিডিয়াতে কিংবা অপরিচিত সোর্স থেকে সন্দেহমূলক কোন লিংক পেয়ে থাকেন তা ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। সাথে সাথে তা মুছে ফেলুন। পাশাপাশি অপরিচিত নম্বর থেকে আসতে পারে ফোন কিংবা ম্যাসেজও। এইসব ফোন কলের ব্যাপারেও হোন সাবধান।  মা-বাবাদের উচিত তাদের সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেবার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে নেয়া, আদৌ তার সন্তানের জন্য তা  জরুরী কিনা? প্রয়োজনে সন্তানরা ইন্টারনেটে কি করছে তার দিকে নজর রাখা। মাঝে মাঝে তার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ডিভাইসগুলোতে গোয়েন্দাগিরি করা। সতর্কতা এবং সাবধানতাই হচ্ছে যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার থেকে আত্মরক্ষার প্রধান হাতিয়ার।

 

নিচের পাঠকদের Blue Whale গেইমটির ৫০ টি টাস্কগুলো ভালোভাবে বুঝার জন্য লিখে দেয়া হলো। তবে গোপনীয় টাস্কে কি কি চ্যালেঞ্জ দেয়া হবে তা ভিকটিম ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

Below are the 50 tasks.

1. Carve with a razor “f57” on your hand, send a photo to the curator.
2. Wake up at 4.20 a.m. and watch psychedelic and scary videos that curator sends you.
3. Cut your arm with a razor along your veins, but not too deep, only 3 cuts, send a photo to the curator.
4. Draw a whale on a sheet of paper, send a photo to curator.
5. If you are ready to “become a whale”, carve “YES” on your leg. If not– cut yourself many times (punish yourself)
6. Task with a cipher.
7. Carve “f40” on your hand, send a photo to curator.
8. Type “#i_am_whale (rus. #я_кит) in your VKontakte status.
9. You have to overcome your fear.
10. Wake up at 4:20 a.m. and go to a roof (the higher the better)
11. Carve a whale on your hand with a razor, send a photo to curator.
12. Watch psychedelic and horror videos all day.
13. Listen to music that “they” (curators) send you.
14. Cut your lip
15. Poke your hand with a needle many times
16. Do something painful to yourself, make yourself sick
17. Go to the highest roof you can find, stand on the edge for some time.
18. Go to a bridge, stand on the edge
19. Climb up a crane or at least try to do it
20. The curator checks if you are trustworthy
21. Have a talk “with a whale” (with another player like you or with a curator) in Skype
22. Go to a roof and sit on the edge with your legs dangling
23. Another task with a cipher.
24. Secret task
25. Have a meeting with a “whale”
26. The curator tells you the date of your death and you have to accept it
27. Wake up at 4:20 a.m. and go to rails (visit any railroad that you can find)
28. Don’t talk to anyone all day
29. Make a vow that “you’re a whale”
30-49. Everyday you wake up at 4:20 a.m., watch horror videos, listen to music that “they” send you, make 1 cut on your body per day, talk “to a whale.”
50. Jump off a high building. Take your life.

 

সবাই নিরাপদে এবং সতর্কতার সাথে অনলাইন সংক্রান্ত প্রযুক্তি  ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন আপনার সামান্য একটু ভুলেই ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত নানান ঘটনার। সবাই ভালো থাকবেন।