আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই। techlearnbd এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করলাম। আজ আমি আপনাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করতে যাচ্ছি।

স্মার্টফোন কেনার সময় বিক্রেতা অনেক গুনগানই করে থাকেন ফোনটি বিক্রয় করার জন্য। কিন্তু আপনি কিভাবে বুঝবেন যে ফোনটি আপনার জন্য যথাযথ কিনা? কিছু হার্ডওয়্যার আর কিছু সফ্টওয়্যার সম্পর্কে ধারণা থাকলে স্মার্টফোন কিনতে আপনার কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না। আর তাই সে ব্যাপারেই আলোচনা হবে আজ। তো চলুন শুরু করা যাক।

  • প্রসেসরঃ

আপনার স্মার্টফোনের প্রতিটি কমান্ড বা কাজের সাথে প্রসেসর জড়িত। দ্রুত কাজ সারতে শক্তিশালী প্রসেসরের কোন বিকল্প নেই। প্রসেসরের গতি তার কোরের সংখ্যা, আর্কিটেকচার ও গতির উপর নির্ভর করে। প্রসেসরের গতি মাপা হয় গিগাহার্জে। যত বেশি গিগাহার্জ হবে, স্মার্টফোনের গতি তত বেশি হবে।

  • র‌্যামঃ

র‌্যামের পূর্ন রুপ হচ্ছে র‌্যান্ডম একসেস মেমোরী। আর এই র‌্যান্ডম একসেস মেমোরীতেই সব এ্যাপ্স ও অপারেটিং সিস্টেম কাজ করে থাকে। র‌্যাম যত বেশি হবে, একসাথে তত বেশি এ্যাপ চালাতে পারবেন। র‌্যামের প্রযুক্তি সাধারণত ডিডিআর সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। ডিডিআর ৩ থেকে ডিডিআর ৪ এর গতি অনেক বেশি। তাই স্মার্টফোন কেনার পূর্বে র‌্যাম ও ডিডিআর এর বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

  • ডিসপ্লেঃ

ডিসপ্লে প্রযুক্তি অনেক প্রকার হতে পারে। হতে পারে অনেক অনুপাতেরও। পুরনো স্মার্টফোনগুলোতে সাধারণত ১৬:৯ অনুপাতের ডিসপ্লে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে স্মার্টফোনগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ১৮:৯ এবং ১৯:৯ অনুপাতের ডিসপ্লে। ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য এর উপরে ব্যবহৃত হয় শক্ত কাঁচ যাকে আমরা বর্তমানে গরিলা গ্লাস নামে চিনি। যে ডিসপ্লেতে কন্ট্রাস্ট বেশি হবে সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে অ্যামোলেড ডিসপ্লেসমূহের কন্ট্রাস্ট বেশি হয়। তাই স্মার্টফোন ক্রয়ের সময় এ ব্যাপারটিও মাথায় রাখবেন।

  • ক্যামেরাঃ

ক্যামেরার ক্ষেত্রে অনেকেই মেগাপিক্সেলের হিসেবটা কষে খুব ভাল করেই। কিন্তু আপনি মেগাপিক্সেলের পাশাপাশি অ্যাপাচার সংখ্যা, ওয়াইড ল্যান্স, এ্যাঙ্গেল লেন্স, জুম লেন্স ইত্যাদি বিষয়সমূহ মাথায় রাখবেন।

  • ব্যাটারিঃ

সাধারণত ব্যাটারির ধারণক্ষমতা মাপা হয় এমএএইচ একক ব্যবহার করে। যার পুরো নাম মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। যে ব্যাটারির মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার যত বেশি হবে তার ধারণক্ষমতাও তত বেশি হবে। তাই স্মার্টফোন কেনার পূর্বে ব্যাটিরর এমএএইচ কত তা জেনে নিন।

  • স্টোরেজঃ

যেহেতু ফোনের মূল বা অভ্যন্তরীন স্টোরেজ থেকেই সব এ্যাপ্স এর কার্যক্রম চালু হয়ে থাকে, সেহেতু আপনাকে স্টোরেজের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে। একটি ব্যাপার খেয়াল রাখবেন ফোনে যতই এক্সটার্নাল মেমোরী ব্যবহার করা হোক না কেন মূল স্টোরেজ অর্থাৎ বিল্টইন স্টোরেজ বেশি না থাকলে ভাল পারফরমেন্স পাবেন না। আর স্মার্টফোনে সবসময় ভালমানের মেমোরী কার্ড ব্যবহার করবেন। সেজন্য ভাল গতি সম্পন্ন মেমোরী ব্যবহার করাই ভাল। মেমোরী কার্ডের গতি কত তা তার ক্লাস দেখে বুঝে নিতে হয়। ক্লাস ৪ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪ মেগাবাইট ডাটা লিখতে ও পড়তে পারে।

  • জিপিইউঃ

অনেকে অবাক হতে পারেন যারা জিপিইউ শব্দটি নতুন করে শুনেছেন। এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। ফোনের ডিসপ্লে রেজুলেশন অনেকটা জিপিইউ এর উপর নির্ভর করে। প্রসেসর ভেদে জিপিইউ আলাদা ব্র্যান্ডের হয়ে থাকে। তাই আপনাকে জিপিইউ এর ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে।

ধন্যবাদ।