বঙ্গবন্ধু -1 উপগ্রহটি প্রথমে  ১৭-১২-২০১৭ তারিখে বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য একটি Ariane 5  রকেটে চালু করা হয়েছিল। Ariane Space থেকে দৃঢ় গ্যারান্টি না থাকায়, BTRC পরিবর্তে Falcon 9  বেছে নিয়েছে ।

প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হয়েছে।

স্যাটেলাইটটি মূলত  ১০-০৫-১৮ তারিখ চালু করা হয়েছিল। তবে প্লেলোড বহনকারী রকেটটি একটি স্বয়ংক্রিয় বন্ধন সৃষ্টি করেছিল কারণ এটি টি -৫৮ সেকেন্ডে অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং নিয়ন্ত্রণে প্রবেশ করেছিল। শীঘ্রই রকেট উৎক্ষেপণটি ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে যায় এবং অবশেষে এটি ১১-০৫-১৮ তারিখে চালু করা হয় ।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ ১২-০৫-১৮ তারিখে এটি থেকে পরীক্ষামূলক সংকেত পেতে শুরু করে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এটি। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় নাম লেখাবে । এরই মধ্যে স্যাটেলাইট টির উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কৃত্রিম এই উপগ্রহের মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে থাকবে নিত্য নতুন সুবিধা।

 

ভূপৃষ্ঠ থেকে ২২ হাজার মাইল ওপরে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থান করবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -১। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে দেশটির বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে এটি পৌঁছাবে নির্ধারিত কক্ষপথে, উৎক্ষেপণের আট দিন পর। প্রায় দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। ৩ দশমিক ৭ টন ওজনের কৃত্রিম স্যাটেলাইট টি উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বে স্যাটেলাইট সদস্য দেশের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার, ইন্টারনেট সেবাদান, ভি-স্যাটসহ ৪০ ধরনের সেবা দেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলি যোগাযোগব্যবস্থা বহাল রাখবে। এর আগে এসব সেবার জন্য দেশের টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা টোলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিঙ্গাপুর, হংকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করত। আর এসব সেবা এখন নিশ্চিত করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ শুধু বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ই হবে না, বরং  এই ট্রান্সপন্ডারগুলা বাইরে বিক্রির ফলে বাইরে থেকেও আরো বৈদেশিক মুদ্রা আসবে। প্রায় ১৫ বছর মিশনের কৃত্রিম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ কক্ষপথে যাওয়ার পর ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ-ভারত হয়ে তাজিকিস্তান পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে ৪০ মেগাহার্টজ গতিতে। ।এদিকে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহটির ২০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে ফ্রিকোয়েন্সি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।এদিকে, স্যাটেলাইটটি প্রাথমিকভাবে পরিচালনা করবে ফ্রান্সের Thales Alenia Space , তবে পরবর্তী সময়ে গাজীপুরে উপগ্রহটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি স্থল স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে একটি ব্যাকআপ স্টেশনও নির্মিত হয়েছে ।