ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রায়ই ক্যাপচা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। আমি রোবট নয় কিন্তু এরকমটা কেন করতে হয়? এটি কি বা এর প্রয়োজনীয়তা কি?”

CAPTCHA

I am not Robot! – এই টার্মটির সাথে খুব ভালভাবেই পরিচিত। হয়ত আপনি কোন ওয়েবসাইটে কোথাও কমেন্ট করতে গেলেন, বা আপনার কোন অনলাইন অ্যাকাউন্টে  লগিন করতে গেলেন অথবা অনলাইনে কোথাও কিছু কিনতে গেলেন  এবং ঠিক কনফার্ম করার আগের মুহূর্তে আপনার সামনে নিচের মত যেকোনো একটা পপআপ উইন্ডো দেওয়া হল

অনেকেই জানেন যে এটি কি এবং কি উদ্দেশ্যে এটি ব্যাবহার করা হয় তারা হয়ত এমনটা ভাবেন এই ক্যাপচা জিনিসটা কি, এটি কেন ব্যাবহার করা হয় এবং এটার উপকারিতা । যদি না জেনে থাকেন, তাহলে প্রথমেই জানা যাক,ক্যাপচা কি?ক্যাপচা কিন্তু আসলে কোন বাংলা শব্দ নয়। এটি কোন ইংলিশ শব্দও নয়। এটি শুধুমাত্র একটি অ্যাব্রিভিয়েশন। অর্থাৎ, কয়েকটি ইংলিশ শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে তৈরি একটি শব্দ বা ওই শব্দগুলোর শর্ট ফর্ম। ক্যাপচা শব্দটি আসলে CAPTCHA এভাবে লেখা হয়। এর ফুল ফর্ম হচ্ছে

Completely Automated Public Turing test to tell Computers and Human Apart

সোজা কথায় বলতে হলে, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ এবং রোবটকে আলাদা করা সম্ভব হয়। কম্পিউটার বা স্মার্টফোন স্ক্রিনের বাইরে বসে যে এটাকে অপারেট করছে সে কি কোনো সত্যিকারের মানুষ নাকি কোনো রোবট তা পরীক্ষা করার জন্যই এই ক্যাপচার সৃষ্টি।

ক্যাপচার জনক  হচ্ছেন, লুইস ভোন আহন ।  এখানে গুগলেরও বেশ বড় একটা ভুমিকা আছে। এই ক্যাপচা সম্পর্কিত ঝামেলার জন্ম হয় ১৯৯৭ সালে কিন্তু এটির তখনো অফিশিয়ালি কোন নামকরণ করা হয়নি। এটির নাম CAPTCHA দেওয়া হয় ২০০৩ সালে।

ক্যাপচা কেন দরকার? ক্যাপচা মুলত প্রথম তৈরি করা হয় স্প্যামিং আটকানোর উদ্দেশ্যে, যদিও এখন আরো অনেক উদ্দেশ্যেই ক্যাপচা ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু ক্যাপচা কিভাবে স্প্যামিং আটকাবে?

মুলত সব ধরনের অবৈধ কাজ আটকানোর জন্যই ক্যাপচার দরকার হয়। এই ধরনের কাজ আটকাতে হলে সার্ভারের বোঝা প্রয়োজন যে, যে ডিভাইস দ্বারা এই সার্ভারটি অ্যাক্সেস করা হচ্ছে সে কি কোনো সত্যিকারের মানুষ অপারেট করছে নাকি কোনো প্রোগ্রামারের তৈরি কোনো রোবট । এটা আগে থেকে বুঝতে পারলেই এই সম্পূর্ণ প্রোসেসটি আটকানো সম্ভব হবে। তার জন্য ঠিক সার্ভারটি অ্যাক্সেস করার আগের মুহূর্তে এমন কিছু টাস্ক দেওয়া প্রয়োজন যেগুলো মানুষের জন্য করা খুবই সহজ কিন্তু কম্পিউটার বা রোবটের জন্য করা খুবই কঠিন।

এই কনসেপ্ট থেকেই ক্যাপচার সৃষ্টি এবং ক্যাপচার ব্যাবহার শুরু হয়। তো, ক্যাপচাতে মুলত কিছু ইংলিশ অ্যালফাবেট বা কোন নাম্বার বা দুটিই একসাথে দেওয়া হয় কিন্তু অক্ষরগুলো একটু বিকৃত করে দেওয়া হয়। এমনভাবে বিকৃত করা হয়, যেন তা দেখে মানুষের ব্রেইন সহজেই বুঝতে পারে যে কোনটি আসলে কোন অক্ষর কিন্তু কোনো প্রোগ্রাম বা কোনো রোবট তা বুঝতে পারেনা। এখন আপনাকে বলা হয় যে ওই অক্ষরগুলোকে আবার লিখতে। যদি আপনি মানুষ হন এবং বুঝতে পারেন যে কোনটি কোণ অক্ষর, তাহলে আপনি সহজেই সেটি ইন্টার করে সার্ভারটি বা ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করতে পারবেন। কিন্তু কোন প্রোগ্রাম বা কোন রোবট তা পারবে না। কারন, ওরা বুঝতেই পারবে না যে এগুলো কোনো অক্ষর কিনা। ইন্টার করা তো দুরের কথা ঠিক এইভাবে কোন ওয়েবসাইটে কোন রোবট বা কোন অটোমেটেড প্রোগ্রামকে ঢুকতে দেওয়া থেকে আটকানো হয়। যার ফলে ওই ওয়েবসাইটে স্প্যামিং হওয়ার আশংকাও অনেক কমে যায়। কারন, অধিকাংশ স্প্যামিং অটোমেটেড স্ক্রিপ, প্রোগ্রাম  দ্বারাই করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর টেকনোলজি যত উন্নত হতে শুরু করল, প্রোগ্রাম বা রোবটও একইসাথে আরও ইন্টেলিজেন্ট এবং উন্নত হতে শুরু করল। এরপর এমন একটা সময় আসলো, যখন এই পদ্ধতিটি আগের মত রিলায়েবল থাকলো না। তখন দেখা গেল যে, প্রোগ্রাম এবং রোবটরাও এই ধরনের ক্যাপচা সমাধান করতে পারছে, কারন তারা আগের থেকে অনেক বেশি ইন্টেলিজেন্ট এবং স্মার্ট।

তখন এই সমস্যা সমাধান করার জন্য গুগল একটি নতুন পদ্ধতি নিয়ে হাজির হল যার নাম নো-ক্যাপচা রি-ক্যাপচাএখন, এই নোক্যাপচা রিক্যাপচা আবার কি? আসলে এটিও আগের মতই একটি ক্যাপচা, কিন্তু এটি আগেরটার থেকে অনেক বেশি স্মার্ট এবং ইন্টেলিজেন্ট। যখন গুগল দেখলো যে আগের পদ্ধতিটি আর কার্যকর নয়, তখন তারা ভাবতে শুরু করল যে, এর থেকেও কঠিন আর কি তৈরি করা যায় যেটা মানুষের জন্য হবে আরো বেশি সহজ এবং রোবটের জন্য আরও বেশি কঠিন? এবং তারা অনেক ভেবে এর একটা ভাল উপায়ও পেয়ে গেল। এবার তারা চিন্তা করল যে ক্যাপচাতে টেক্সট এর পরিবর্তে তারা কিছু ছোট ছোট ছবি দেবে এবং সবাইকে বলা হবে ওই ছবিগুলো থেকে নির্দিষ্ট একটি অবজেক্ট খুজে বের করে মার্ক করতে।

যেমন, হয়ত আপনাকে কিছু ছোট ছোট ছবি দেওয়া হবে এবং বলা হবে ওই ছবিগুলো থেকে যেসব ছবিতে কোনো রোড সাইন আছে সেগুলো মার্ক করতে হবে অথবা একটি বড় ছবির মধ্যে থেকে ছবির মধ্যে যে যে অংশে কোনো গাড়ি আছে, সেই অংশগুলো মার্ক করতে হবে। যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি সঠিকভাবে এটা করতে পারছেন, ততক্ষন আপনাকে সাইটটি অ্যাক্সেস করতে দেওয়া হবে না।

আপনি নিজেই ধারণা করতে পারছেন যে এটা মানুষের জন্য কতটা সহজ এবং রোবট বা অটোমেটেড প্রোগ্রামগুলোর জন্য কতটা কঠিন।এই ক্যাপচা সিস্টেমটিই এখন সবথেকে বেশি ব্যাবহার করা হয় এবং সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। আপনি এই ক্যাপচাটিই বেশি দেখে থাকবেন। আবার অনেকসময় এই ক্যাপচাটি আপনাকে পূরণ করার দরকারও হবেনা। অনেকসময় আপনাকে জাস্ট ক্যাপচাতে ক্লিক করতে হবে এবং কিছুসময় পরে কোনকিছু না করেই আপনাকে মানুষ হিসেবে Approve করে দেওয়া হবে। এটা কিভাবে করা হয়? এই পদ্ধতিটি আরও বেশি স্মার্ট। এই পদ্ধতির পেছনে আছে গুগলের অসাধারন শক্তিশালী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।  এসময় যখন আপনি ক্যাপচার ওপরে ক্লিক করেন, তখন আপনার কাজকর্ম ট্র্যাক করা হয়। কাজকর্ম বলতে আপনার মাউস কার্সর মুভমেন্ট, আপনার ব্রাউজারের কুকি, আপনার আইপি অ্যাড্রেস, আপনার অভারল ব্রাউজিং হ্যাবিট এবং আরো অনেক কিছু যেগুলো গুগল গোপন অর্থাৎ আপনার মাউস কার্সরটি বিভিন্নভাবে বিভিন্নদিকে মুভ করতে থাকবে।  কিন্তু এটা দেখার পরে এবং আপনার ব্রাউজিং হ্যাবিট লক্ষ্য করার পরেও যদি কোনো সন্দেহ থাকে, তখন আপনাকে ওই ছবি মার্ক করার টাস্কটি দেওয়া হবে।