techlearnbd এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি। কেমন আছেন সবাই?

আজ আমি আপনাদের সামনে ইউটিউবের সর্বশেষ আপডেট নিয়ে কিছু আলোচনা করবো। বরাবরই ইউটিউব ভুয়া ইউটিউব সনাক্ত করতে প্রতি বছরই কিছু না কিছু নতুন নিয়ম সংযোজন করে। কিন্তু ইউটিউব সর্বশেষ যে নিয়ম চালু করেছে তা ভুয়া ইউটিউবারদের জন্য কঠিন হলেও ট্যালেন্টদের জন্য কিন্তু নয়! তাই যারা ট্যালেন্ট তাদের ভয়ের কোন কারণ নেই।

২০১৭ সালে চ্যানেলে মনিটাইজেশন অন করার জন্য আবেদন করতে হলে চ্যানেলের ভিউর সংখ্যা নূন্যতম ছিল ১০,০০০ (দশ হাজার)। এতেও ভুয়া ইউটিউবারদের আটকাতে পারেনি ইউটিউব। তারা নজর কাড়া থাম্বনেইল ব্যবহার করে বিরক্তিকর ভিডিও আপলোড করতেই থাকতো। যার ফলে ভিউয়ার যেমন বিরক্ত হতো, বিরক্ত হতো বিজ্ঞাপনদাতারাও। অনেক কোম্পানিও ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিবে না বলেও ঘোষনা দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইউটিউব ২০১৮ সালের জন্য এক কঠিন নিয়ম চালু করলো মনিটাইজেশনের (Monetization) জন্য। চলুন জানা যাক কি কি লাগবে মনিটাইজেশনের (Monetization) জন্য।

  • ৪০০০ (চার হাজার) ঘন্টা ওয়াচ টাইমঃ

ওয়াচ টাইমের বিষয়টাকে ইউটিউব অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে থাকে। কেননা কোন ভাল ভিডিওর মান তার ওয়াচ টাইমের উপরই নির্ভর করে। যার ভিডিও যত ভাল হবে তার ওয়াচ টাইমও তত ভাল ও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য ইউটিউব নির্ধারণ করে দিয়েছে যে মনিটাইজেশনের (Monetization) জন্য আবেদন করতে হলে সর্বশেষ বারো মাসে ৪০০০ (চার হাজার) ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে।

  • ১০০০ (এক হাজার) সাবস্ক্রাইবারঃ

শুধু ৪০০০ (চার হাজার) ঘন্টা ওয়াচ টাইম হলেই হবে না সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যাও নির্ধারণ করে দিয়েছে ইউটিউব। সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে একটিভ ইউটিউবারের বিকল্প নেই। অর্থাৎ আপনাকে রেগুলার ভিডিও আপলোড করতেই হবে। যে সকল বিষয়ের উপর মানুষ আসক্ত ঐগুলোর নতুন নতুন আপডেট পেতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। আর তাই মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে হলে ৪০০০ (চার হাজার) ঘন্টা ওয়াচ টাইম হলেই হবে না, লাস্ট বার মাসে থাকতে হবে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার।

আপনাকে আরও একটি দুঃস্বংবাদ দিচ্ছি এই বলে যে, লাস্ট বার মাসে আপনি ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম ও ১০০০ সাবস্ক্রাইবার হলেই মনিটাইজেশনের (Monetization) জন্য আবেদন করতে পারবেন কিন্তু মনিটাইজেশন (Monetization) চালু করার পূর্বে আপনার চ্যানেলকে ইউটিউব রিভিও করবে। যদি আপনার কন্টেন্ট খারাপ হয় যা ইউটিউবের গাইড লাইনের পরিপন্থি, তাহলে মনিটাইজেশনের (Monetization) চালু-তো দূরের কথা আপনার কষ্টে গড়া চ্যানেলটি সাসপ্নেডও করে দিতে পারে।

শেষকথা, ইউটিউবকে সিরিয়াস হিসেবে নিতে পারেন। তা না হলে এই জগতে টিকে থাকাটা এতোটা সহজ নয়। যেহেতু ফেব্রুয়ারী মাসের ২০ তারিখ মনিটাইজেশন অন করা পুরনো চ্যানেলের উপরও এই নিয়ম চালু হবে তাই অনেকেই হয়তো ইউটিউব নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে না। আর আপনি যদি একটিভ হন তাহলে সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাবেন আপনিই।

ধন্যবাদ।